করোনা ১

উপলব্ধি
করোনা আমাদের মত স্বার্থপর বুড়োদের খেদাতে চায়।
তরুনদের নেতৃত্বে হিংসামুক্ত শোষণমুক্ত সীমানামুক্ত শান্তির দুনিয়া বানাতে চায়।

আমরাই বাংলাদেশ

আইবিএম একবার কম্পিউটারের পার্টস তৈরীর অর্ডার দিতে চাইলো জাপানে – বিষয়টি ছিলো পরীক্ষামূলক

স্পেসিফিকেশান দেয়ার সময় আইবিএম জানিয়ে দিলো, ‘তারা প্রতি ১০,০০০ এ সর্বোচ্চ ৩টি ডিফেক্টিভ পার্টস গ্রহন করবে … এর বেশি হলে গ্রহন করবে না’

যখন ডেলিভারী এসে পৌঁছালো, তার সাথে জাপানীদের দেয়া চিঠিটি ছিলো এমন;

“আমরা, জাপানীরা, নর্থ আমেরিকার বিজনেস প্রাকটিস বুঝতে পারছি না … তাই ১০,০০০ টি সঠিক মানের পার্টস পাঠানো হলো, আর ৩টি ‘ডিফেক্টিভ পার্টস’ আলাদা করে বানিয়ে তা প্যাকেট করে দেয়া হলো … এগুলো ‘বিক্রী’র জন্য নয়’ … প্যাকিং বক্সেও ‘বিক্রী’র জন্য নয়’ কথাটি লিখে দেয়া আছে

আশা করি আপনার এ নিয়ে খুশী থাকবেন”

… এই হলো জাপানীদের পারফেকশনের লেভেল… তাদের কোয়ালিটির লেভেল

এটা কিন্তু তাদের একদিনে হয়নি

আজ থেকে বছর ছয়েক আগে ইন্দোনেশিয়াতে গিয়েছিলাম টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের একটা ইন্টারন্যাশনাল সামিট এ

সে সময় আমি সহ কয়েকজন বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছিলাম

আমি সবার থেকে লম্বা চওড়া হওয়ায় বাংলাদেশ সোসাইটি ফর টোটাল কোয়ালিটির ম্যানেজমেন্টের বাশার আঙ্কেল আমার হাতে পতাকা ধরিয়ে দিলো

আমিও খুশি

সি বীচের পাশে বিরাট মাঠে লেকচার শুরু হয়েছে

পতাকা হাতে হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে আছি এমন সময় লেকচার দিতে থাকা জাপানের এক কোয়ালিটি গুরু আমার দিকে আঙুল তুলে বললেন, “হ্যালো ইয়াং ম্যান… তুমি হাসছো কেন? আসো স্টেইজে আসো… তোমার সাথে আলাপ করি”

পতাকার সাথে আমিও কাঁপতে কাঁপতে স্টেজে যেয়ে বললাম ‘মুশি মুশি’

(এই একটাই জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ আমি পারতাম… যার মানে ‘হ্যালো’)

তিনিও মুশি মুশি করতে করতে সবার সামনে আমাকে স্মার্ট ইংলিশে জিজ্ঞেস করলেন, “‘কোয়ালিটি ওয়ার্ক পেতে খরচ কম হয়’ এটা বলার সাথে সাথে তুমি শরীর নাড়িয়ে হাসলে কেন? … তোমার কি মতামত ইয়াং ম্যান?”

আমি উত্তর দিলাম, ‘আমাদের দেশে তো কোয়ালিটি কাজ পেতে গেলে খরচ বাড়ে’

“কেন ইউ প্লিজ এক্সপ্লেইন?”

‘আমি কন্সট্রাকশান ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আছি গত ১০ বছর থেকে

সাইট ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করেছি আমার ক্যারিয়ার… তখন থেকে দেখে আসছি একটা সিম্পল ওয়াল প্লাস্টার করতে আমাদের কি বেগ পেতে হতো

আমি হয়তো ওয়ার্কারকে বললাম, পারফেক্ট প্লাস্টার করবেন… বুঝেছেন?

যেখানে ১০০ স্কোয়ার ফিটের ওয়াল প্লাস্টার করতে লাগে ১ ব্যাগ সিমেন্ট, সেখানে তারা ৩ ব্যাগ খরচ করে আস্তে আস্তে কোয়ালিটি ওয়ার্ক করেছে… সুতরাং কোয়ালিটি কাজ করতে গেলে খরচ তো বাড়ে’

“কিন্তু ৩ টা ব্যাগ লাগলো কেন?”

‘কারণ ১ম ব্যাগ দিয়ে কাজ শেষ করে দেখে, ওয়ালের এক দিকে উঁচা আরেক দিকে নিচা… তো এটাকে লেভেল করতে আরেক ব্যাগ লাগলো’

“তৃতীয় ব্যাগটা লাগলো কেন?”

‘দ্বিতীয় ব্যাগ দিয়ে কাজ শেষ করার পরে দেখা গেলো…যে দিক আগে উঁচা ছিলো, তা এখন হয়ে গেছে নিচা… উঁচা-নিচা তো আর কোয়ালিটির লক্ষন না… তাই তৃতীয় ব্যাগটা লাগলো’

“তারমানে তোমরা ৬৬% বেশী খরচ দিয়ে কোয়ালিটি ওয়ার্ক করছ?”

‘উঁহু আরও বেশী… ৩ ব্যাগ ব্যবহারের কারণে সময় বেশী লাগে, তার মানে লেবার চার্জ বাড়ছে… তারপরেও দেখা যায় ছদবদ করে প্লাস্টার শেষ করার কারণে মাস খানিক পরেই সেখান দিয়ে পানি লিক করছে… তখন আবার খরচ করে লাগাতে হচ্ছে ওয়াটার প্রুফিং কেমিক্যাল … খরচ বাড়তেই থাকে’

“তার মানে তোমার দেশের মেইন সমস্যা হলো ছদবদ কাজ?”

‘ইয়েস ইউ আর রাইট’

“তো এই ছদবদ কাজ যেনও না হয় এর জন্য তোমার কি কি মেজারস নিয়েছ?”

‘আমরা বকা ঝকা দেই… মাঝে মাঝে ৯ তলা থেকে ফেলে দেয়ার হুমকিও দেই’

“হুমকি কাজে দেয়?”

‘মাঝে মাঝে কাজে দেয়… তবে প্রতি সপ্তাহে হুমকি রিনিউ করতে হয়’

“হাহা শুনো, তোমরা মোটিভেশনাল ট্রেনিং নেয়া শুরু করো … তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দাও যে এই কাজটা তোমার নিজের বাসার ওয়াল মনে করে করো… তাহলেই দেখবে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে”

… দেশে এসে বসকে বললাম … বসকে বিষয়টা বুঝাতে আমার ২ বছর লাগলো

ফাইনান্সিয়াল ক্যালকুলেশন করে তাকে বুঝালাম যে, হুমকি মুমকি না দিয়ে বরং মোটিভেট করতে পারলে নূন্যতম ৩৩% থেকে শুরু করে ৫০% পর্যন্ত সেইভিং হবে

শুরু হলো মোটিভেশন… ট্রেনিং

আজ ৪ বছর পরে এসে দেখা গেলো, এখন একটা প্রজেক্ট শেষ করতে আগের থেকে অনেক কম খরচ হচ্ছে

আমার প্রতিটা ওয়ার্কার মনে করে তারা এই কোম্পানি ওউন করে… এবং সেই মাইন্ড সেট নিয়েই কাজ করে

সুতরাং মোটিভেশনের কোনই বিকল্প নেই… একজন মামুলী পুলিশ সার্জেন্ট বুঝে ফেলুক এই দেশটা আমার… একবার জাস্ট এই কথাটা মাথায় ঢুকুক … সে কোনও ভাবেই রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করতে দিবে না… সে কোনও ভাবেই তার এলাকায় ছিনতাই হতে দেবে না

বা, দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন অফিসারের মাথায় ঢুকে যাক আরে দেশটা তো আমার … অনেক কিছু লাইনে এসে পড়বে

শুধু একটা বিষয় মাথায় ঢুকাতে হবে, তা হলো “দেশটা আমার… আমরাই বাংলাদেশ”

সব সেক্টরেই, কোয়ালিটি প্রডাকশান আসা শুরু করবেই করবে

গ্যারান্টিড

কারণ সেদিনের সেশান শেষে সেই জাপানিজ গুরু, কানে কানে বলেছিল, “মুশি মুশি… দেশের পতাকা হাতে নিলেই হয় না ইয়াং ম্যান … ইউ হেভ টু ওউন ইট … দিজ সিম্পল ইজ দ্যা ট্রিক … ছদবদ ইজ নট দ্যা ইস্যু”

Hello world!

This is your very first post. Click the Edit link to modify or delete it, or start a new post. If you like, use this post to tell readers why you started this blog and what you plan to do with it.

Happy blogging!